একদিনে পাহাড়- ঝরনা ও সমুদ্র ভ্রমণ করতে কোথায় যাবেন
একদিনে পাহাড়-ঝরণা ও সমুদ্র ভ্রমণ করতে কোথায় যাবেন
তানভীর আহমদ রাহী
কর্মব্যস্ত নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করতে একদিনের ছুটিতে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চাইলে আদর্শ গন্তব্য হতে পারে সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা ২ ঝর্ণা ও মিরসরাইয়ের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। পাহাড়, ঝর্ণা আর সমুদ্র-তিনের স্বাদ একদিনেই। গত শনিবার ভাই-ব্রাদারদের নিয়ে সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম গন্তব্য নগরীর অলংকার মোড়। দেশের যেকোনো স্থান থেকে চট্টগ্রামে এসে সীতাকুণ্ড যেতে হলে এই অলংকার মোড় হয়েই যেতে পারবেন। অলংকার থেকে সীতাকুণ্ডগামী বাসে চড়ে বসি। ভাড়া ৭০-৮০ টাকা। প্রায় এক ঘণ্টার পথ। রাস্তার দু’পাশে সবুজ পাহাড়ের সারি মন ভরে যায়। গিয়ে নামি ছোট দারোগারহাট। সেখান থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি আমাদের পৌঁছে দেয় সহস্রধারা ২ ঝর্ণার প্রবেশ গেটে। ৮০ টাকার টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ। টিকিটের সঙ্গেই রয়েছে কৃত্রিম লেকের নৌকা ভাড়া। লেকের স্বচ্ছ জলে নৌকা ভাসিয়ে ঝর্ণার কাছে যেতেই শীতল বাতাস আর ঝর্ণার পানির শব্দে মন জুড়িয়ে যায়। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। মূল ঝর্ণার পাশেই রয়েছে আরেকটি ছোট ঝর্ণা। পথ খুব বেশি দুর্গম না হওয়ায় যারা হাঁটতে পারেন না, তাদের জন্যও সহস্রধারা ২ উত্তম পছন্দ।
ঝর্ণা উপভোগ শেষে দুপুরের দিকে আমরা রওনা দিই বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। ছোট দারোগারহাট থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। চাইলে লোকাল বাসেও যাওয়া যায়। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের বিশালতা আর উত্তাল ঢেউ দেখে সবাই বিমোহিত হই। বিকেলের সোনালী রোদে সৈকতের রূপ ছিল অপরূপ। সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যায় আমরা ফেরার পথ ধরি। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একদিনের এই ট্যুর হতে পারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
তানভীর আহমদ রাহী
শিক্ষার্থী : অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ
