সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

মোবাইল ফোন আসক্তি: হালের নতুন ব্যাধি

Author

মোঃ শাদমান আকিব , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৫১ বার

বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর। মোবাইল ফোন এই তথ্যপ্রযুক্তি যুগের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে, যা ছাড়া এক মুহূর্ত চলাও অসম্ভব। দিন দিন মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যন্ত্রটি আমরা এক মুহূর্তের জন্যও হাতছাড়া করতে চাই না। মোবাইল ফোন যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত আসক্তি আমাদের অনেক সৃষ্টিশীল বা প্রোডাক্টিভ কাজকে ব্যাহত করছে। অথচ অতীতে আমাদের এমন মোবাইল-নির্ভরতা ছিল না।
​বিশেষ করে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আমাদের সবকিছু অনলাইনে করতে হয়েছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সব কিছুই চলে গিয়েছিল ইন্টারনেটের দখলে। যার ফলে আমাদের মধ্যে এক তীব্র মোবাইল-নির্ভরতা তৈরি হয়। তবে করোনাকালীন সময়ে আরও একটি ভয়ঙ্কর আসক্তি তৈরি হয়েছে; তা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘রিলস’ বা ‘শর্টস’। টিকটকের মাধ্যমে এর শুরু হলেও এখন ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের মতো সব জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মেই রিলসের রাজত্ব চলছে। এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলো যেমন আমাদের আসক্তির মূল কারণ, তেমনি এগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রিলস বা শর্টস মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা মোবাইলের স্ক্রিনে এই রিলস্ দেখেই দিনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টুকু অপচয় করছি।

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে বুঝতে পারি যে, আমাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তি তৈরি হয়েছে কি না?

সেজন্য প্রথমেই আমাদের ফোনের ‘স্ক্রিন টাইম’ খেয়াল করতে হবে। তারপর হিসাব করে দেখতে হবে, এই সময়ের মধ্যে কতটুকু সময় আমরা প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যয় করেছি, আর কতটুকু সময় অপ্রয়োজনে নষ্ট করেছি। কোনো নোটিফিকেশন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই যদি আমরা বারবার ফোনের লক খুলি; ফোনটি কাছে না থাকলে যদি মনে হয় জীবনের বড় কোনো কিছু মিস করছি, কিংবা যে কোনো কাজের মধ্যে মনোযোগ হারিয়ে বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস থাকে—তাহলে এই লক্ষণগুলোই বলে দেবে আমরা মোবাইল ফোনে মারাত্মকভাবে আসক্ত।

​এই সর্বনাশা আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?

​এর জন্য প্রথমে আমাদের ফোনের স্ক্রিন টাইম ট্র্যাক করতে হবে এবং কোন কোন অ্যাপে বেশি সময় অপচয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সেসব অ্যাপ ব্যবহারের পেছনে যে সময় ব্যয় হতো, তা থেকে প্রাথমিক অবস্থায় মাত্র ৫% সময় কমিয়ে ফোনে টাইমার সেট করতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ অভ্যাসের পর আরও ৫% সময় কমিয়ে দিতে হবে। এভাবে আমরা ধাপে ধাপে আমাদের ফেনের স্ক্রিন টাইমকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারি।
​একইসঙ্গে, অবসরে কোনো একটি সৃজনশীল শখ বা ‘হবি’ গড়ে তুলতে হবে; হতে পারে তা বই পড়া, ডায়েরি লেখা, বাগান করা কিংবা কোনো পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া। এর ফলে অবসর সময়ে অবচেতনভাবেই আমাদের ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসবে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন হাতে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ​মনে রাখতে হবে, আসক্তি যেহেতু একদিনে তৈরি হয়নি, তাই এর সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। তবে একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ মেনে চললে আমরা সহজেই মোবাইল ফোনের এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে পারি।

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।